
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে মো. ইসরাফিল নামের এক ব্যক্তিকে মুঠোফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় নিহতের ভাই আবিদ হোসেন মহম্মদপুর থানায় ২৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। যদিও কেউ গ্রেপ্তার হননি।
মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের গত ২৬ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জটিল ও স্পর্শকাতর। ওই ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২১ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহে রিহান মাহিন (১৫) নামের এক শিশুকে হত্যা করা হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তিন শিশুকে চোর অপবাদ দিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করা হয়। পরে চার ঘণ্টা আটকে রেখে তাদের পেটানো হয়। নির্যাতনে মাহিনের মৃত্যু হয়।
মাহিনের মা খদিজা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে চোর নয়। মারধরের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা মাহিনকে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘মাহিন একটু পানি চাইছিল, তারা পানি পর্যন্ত দিতে দেয় নাই।’
প্রথম আলো বিগত ১৩ মাসের ৪৬টি পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬৭ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছে, মামলাগুলোতে আসামি গ্রেপ্তারের হার নগণ্য। ৪৬টির মধ্যে ৩৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ১০টি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাতে আসামির সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি (অজ্ঞাতসহ)। এর মধ্যে ২৭টি মামলায় ১১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসামি গ্রেপ্তারের হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। ৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
পিটিয়ে হত্যার ঘটনা নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম আলো তথ্য সংগ্রহ করে। পরে গত মাসের শেষ সপ্তাহে তথ্য হালনাগাদ করা হয়। ঢাকায় প্রথম আলোর তিনজন প্রতিবেদক এবং ২৬টি জেলায় প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা এ কাজে যুক্ত ছিলেন। দেখা যায়, ৯টি মামলায় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একের পর এক মব ভায়োলেন্স বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের আগস্ট থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাসে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতার শিকার হয়ে ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশের আইন অনুযায়ী, অপরাধী হলেও ব্যক্তিকে মারধর বা পিটিয়ে হত্যার সুযোগ নেই। যাঁরা আইন হাতে তুলে নেবেন, তাঁরাও অপরাধী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পিটিয়ে মানুষ হত্যায় অনেক ক্ষেত্রে জড়িতদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা কম। সরকার মৌখিকভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও মাঠপর্যায়ে তা ঠেকাতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
SOURCE:প্রথম আলো
\